দিনাজপুরে ট্রান্সফরমার চুরির মামলার পর ৫ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা, হয়রানির অভিযোগ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় কারাগারে থাকা মোঃ দিলদার হোসেনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের পর একই গ্রামের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচজনের দাবি, তাদের হয়রানি করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোঃ দিলদার হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর গ্রামের মোঃ মশিউর হোসেন মটার, মোঃ আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু), মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল মান্নান ও মোঃ গুডম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দিলদার হোসেনের অভিযোগ, আসামিরা তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তাকে মারধর করেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার আসামিরা।

অভিযুক্তদের দাবি, দিলদার হোসেনের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই এবং চাঁদা দাবি বা মারধরের মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তাদের অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আদালতে এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামি মোঃ মশিউর হোসেন মটার বলেন, “আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকি। দিলদার হোসেনের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তারপরও আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি মামলা করেছেন বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।”

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “দিলদার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দৌলতপুরে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা জানার পর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে মশিউর হোসেন মটারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

এদিকে, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় দিলদার হোসেনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ এবং পরবর্তীতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্তরা।

তবে আদালতে দায়ের করা মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে মো. দিলদার হোসেন বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।