বগুড়ায় প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেমিকার ভাবি ও দাদিকে হত্যার পরের দিন আসামী মোঃ সৈকতকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই)দুপুরে বগুড়া শহরের খান্দার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর হরিগাড়ী বিল থেকে হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের অভিভাবক বুলবুল আহম্মেদ বাদি হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত বুধবার রাতে বগুড়া পৌর এলাকার ইসলামপুর (হরিগাড়ী) পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বৃদ্ধা লাইলী বেওয়া (৬০) এবং তার নাতবউ হাবিবা আক্তার (২২)। এই ঘটনায় লাইলী বেওয়ার কিশোরী নাতনি বন্যা আক্তারও (১৫) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আহত বন্যাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল অভিযুক্ত সৈকত হাসান। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সৈকত এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। বুধবার রাতে সৈকত বন্যার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং প্রথমে তাকে পেটে ছুরিকাঘাত করে। বন্যার চিৎকারে তার দাদি লাইলী বেওয়া ও ভাবি হাবিবা আক্তার এগিয়ে এলে সৈকত তাদের দু’জনকেই নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মাঠে নামে এবং বুধবার গভীর রাতে খান্দার পাসপোর্ট অফিস এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সৈকত হাসানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এই সময় ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া এলাকাবাসী হত্যাকারী সৈকতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশেষ করে ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত সৈকত হাসান শহরের ইসলামপুর হরিগাড়ি এলাকার মো. সোহেল ইসলামের ছেলে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুততম সময়ে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।





