নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কামুল্যা ফকিরপাড়া গ্রামে পুকুর খনন ও পাড় উঁচু করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত আটটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর ধরে এলাকার কয়েকটি পরিবার জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগলেও সম্প্রতি পুরোনো পুকুর সংস্কারের নামে চারপাশের পাড় অস্বাভাবিকভাবে উঁচু করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে বসতবাড়ির পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত ১০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কামুল্যা গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী। অভিযোগে তিনি কামুল্যা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন এবং মৃত মোজাহার আলীর ছেলে শামসুর রহমানকে বিবাদী করেন।
ভুক্তভোগী আকবর আলী জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাড়ির জমে থাকা পানি শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা পানিতে ডুবে থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে। অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই পুকুরের পাড় উঁচু করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলো কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামের প্রধান চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে পুকুরের পাড় উঁচু করার অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও শামসুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবাদীদের ডেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বুড়ইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





