আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শাক-সবজির ক্ষেত, কাঁচা মরিচের আবাদ এবং রোপা আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হলে শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার কোমারপুর, জিনইর, কেশরতা, ডালম্বা, শালগ্রাম, আমইল, কোমারভোগ, দমদমা ও সান্দিড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নিচু জমির অধিকাংশ সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। কাঁচা মরিচ, শিম, লাউ, পটল, বেগুন, শসা, মুলা ও ঝিঙাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি এবং ৫৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার বিঘা জমিতে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা আমনের বীজতলাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল সংখ্যক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কোমারপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “২০ শতক জমিতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পেরেছি। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। গাছে পচন ধরতে শুরু করেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগেভাগেই মরিচ তুলে ফেলছেন। এভাবে চলতে থাকলে বাজারে মরিচের সংকট তৈরি হবে এবং দামও বেড়ে যাবে।”

আমইল গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে তার নিচু জমির পটল, মুলা ও শসার ক্ষেতে পানি জমে গাছ নষ্ট হতে শুরু করেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কাঁচা মরিচ, পটল, করলা, বরবটি, লাউ, কুমড়া, পুঁই ও কলমিসহ বিভিন্ন শাক-সবজির উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে আমনের বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম বলেন, “ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি অপসারণ করা না গেলে মরিচসহ বিভিন্ন সবজিতে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিতে পারে এবং গাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। দ্রুত পানি সরানো সম্ভব হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো যাবে।”





