নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। জনগণের কথা বলার চেষ্টা করলেও সরকার তা বলতে দিচ্ছে না। এ কারণে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে আব্দুল মালেকের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে তাঁর শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। এরপর স্থানীয় মাদ্রাসায় আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদ্রাসা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। মানিকপোটল গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান হাত নেড়ে উপস্থিত মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।
কবর জিয়ারত শেষে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুশাসন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বগুড়ার উন্নয়ন বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের শাসনতান্ত্রিক নিরাপত্তা দেওয়া বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব। ঢাকা থেকে রংপুরমুখী কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই কর্মসূচিতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিতভাবে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জনভোগান্তি এড়িয়ে মানুষকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও সোচ্চার করাই এ রাজনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষ গুম, নির্যাতন ও নানা ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের গণবিপ্লব দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের ভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জনগণের রায়কে অবহেলা করার পরিণতি ভালো হয় না বলে সতর্ক করেন জামায়াত আমির।
সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বক্তব্যের অখণ্ডতা বজায় রেখে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যম স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকলে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হয়।
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বগুড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সাবেক ‘মিনি শিল্পনগরী’ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।
ভবের বাজার ও পোড়াদহ টেক্সটাইল রোডের বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
বক্তব্যের শেষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, তিস্তাপাড়সহ সারা দেশের মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরা এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।

এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় পৌঁছে সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে তিনি সার্কিট হাউস থেকে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





