নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাট থেকে সোনালী আঁশ আলাদা করার পর যে পাটখড়ি অবশিষ্ট থাকে, একসময় সেটিকে অনেকেই তেমন মূল্য দিতেন না। কিন্তু এখন সেই পাটখড়িই হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলছড়ি গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় পাটখড়ির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এটি স্থানীয় মানুষের আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে কৃষকরা পাটখড়ি নদীর চর, বাঁধ কিংবা খোলা মাঠে সারি করে রোদে শুকাতে দেন। কয়েকদিনের রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে সেগুলো আঁটি বেঁধে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রান্নার জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁ, ইটভাটা এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় এর চাহিদা রয়েছে। ফলে মৌসুমজুড়ে কৃষক ও শ্রমিকরা পাটখড়ি বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন।
ফুলছড়ি গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় শুকাতে দেওয়া পাটখড়ির দীর্ঘ সারি। কেউ পরিবার নিয়ে খড়ি শুকাচ্ছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ ট্রাক, ভ্যান বা নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৃশ্য যেন নদীপাড়ের মানুষের মৌসুমি কর্মব্যস্ততার এক জীবন্ত চিত্র।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। আগে অনেক সময় পাটখড়ি ক্ষেতেই পড়ে থাকত বা সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা হতো। এখন বাজারে চাহিদা থাকায় এর আলাদা মূল্য তৈরি হয়েছে। এতে পাট চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠছে।

শুধু কৃষকই নন, পাটখড়ি সংগ্রহ, শুকানো, আঁটি বাঁধা, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনেক দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে নদীপাড়ের অর্থনীতিতে পাটখড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটখড়ি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে কাঠের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে। পাশাপাশি পাটের প্রতিটি অংশের অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকদের আয়ও বাড়ছে।
যমুনার তীরের ফুলছড়ি গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় রোদে শুকাতে দেওয়া সারি সারি পাটখড়ি শুধু একটি মৌসুমি দৃশ্য নয়, এটি নদীপাড়ের মানুষের পরিশ্রম, সম্ভাবনা ও বাড়তি আয়ের এক নীরব গল্প। সোনালী আঁশের পর এই পাটখড়িই আজ অনেক পরিবারের জীবিকায় নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।





