বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও বাজারে লোটো শো-রুমের স্বত্বাধিকারী পিন্টু আকন্দকে (৩৮) অপহরণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই শো-রুম থেকে তাকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংলগ্ন আদমদীঘী উপজেলার কুমাড়পাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানাগেছে, নিহত পিন্টু আকন্দ মৃত আয়েজ উদ্দিন ছেলে। সে নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার লৌহচড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত প্রায় ৯টা মিনিটের দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার লোটো শো-রুমের সামনে একটি সাদা রঙের একটি হাইস গাড়ী থামে। এসময় গাড়িটি থেকে মুখোশধারী ৪জন নেমে আসে। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে শো-রুমের ভেতরে ঢুকে ব্যবসায়ী পিন্টুকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করেন। এবং তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আদমদীঘী উপজেলার দিকে চলে যায়।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে আরও জানাগেছে, গাড়ীর মালিককে যে গন্তব্যস্থলে যায়গার কথা বলে ভাড়া নেয়া হয় সেই গন্তব্যস্থলে না গিয়ে অন্য দিকে যেতে দেখে “জিপিএসের মাধ্যমে” গাড়ী বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাড়ী বন্ধ হলে ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা গাড়ী রেখে পালিয়ে যায়। জিপিএসের মাধ্যমে ঘটনাস্থল জানতে পেরে তাৎক্ষণিক দুপচাঁচিয়া থানা ও আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান ও দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফোর্সসহ আদমদীঘি উপজেলার কোমারভোগ গ্রাম থেকে তোফাজ্জলের বাসার সামনে গাড়ী থামে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও হাইচ মাইক্রোবাসের পিছনের সিটের পা রাখার স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পিন্টুর নাকে মুখে কসটেপ পেঁচানো ছিল।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন বলেন, ‘অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’





