দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে সভা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় কাজিহাল ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউপি সদস্য মো. খাজানুর ইসলামকে আহ্বায়ক করে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, প্যানেল চেয়ারম্যান কাঞ্চন মিয়া দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধার্য করা হোল্ডিং ট্যাক্স ও রিকশাভ্যানের লাইসেন্স বাবদ আদায় করা অর্থের অনিয়ম, ইউপি তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, বন বিভাগের ৭ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়ম এবং ভুয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

সভায় ইউপি সদস্যদের ভাতা প্রদানসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে স্থানীয় সরকার আইন ও ইউনিয়ন পরিষদ-সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সদস্যরা।
এ বিষয়ে ১১ জন ইউপি সদস্য ও সদস্যার স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র গত ২৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কাঞ্চন মিয়া প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের সম্পদ মনে করে ইচ্ছামতো পরিচালনা করেছেন এবং পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের কার্যক্রমে যথাযথ গুরুত্ব দেননি।

ইউপি সদস্য মো. তসলিমুদ্দিন সরকার বলেন, “তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য। দায়িত্বে থেকে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার অপসারণ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সভার আহ্বায়ক ও অভিযোগকারী মো. খাজানুর ইসলাম (সুমন) এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা।





