নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘‘৫৪ বছর আগের মুজিববাদী সংবিধান দিয়ে নতুন বাংলাদেশ চলতে পারে না।’’ তিনি দাবি করেছেন, নতুন সংবিধানে জুলাই ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেটি নতুন বাংলাদেশের জন্য একটি রাজনৈতিক ইশতেহার হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার বগুড়া শহরের সাতমাথায় মুক্ত মঞ্চে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে ‘‘জুলাই পদযাত্রা’’র এক পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। এসময় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘‘জুলাই আমাদের গন্তব্য, আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ।’’

তিনি জানান, যারা জুলাই ঘোষণাপত্রের বিরোধিতা করেন, তারা আওয়ামী লীগের পাহারাদার এবং আওয়ামী লীগ কখনোই এ দেশের রাজনৈতিক দল ছিল না, বরং এটি ভারতের পার্টি ছিল। ‘‘যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তাদের এ দেশ থেকে বিতারিত করা হবে,’’ মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সামান্তা শারমিন, ডা. তাসনীম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভাসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
নাহিদ ইসলাম বগুড়ার ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘বগুড়া সিটি করপোরেশন হওয়ার সব শর্ত পূর্ণ হলেও তা হয়নি। বগুড়াবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এনসিপি তাদের সঙ্গে এক হয়ে লড়াই করবে।’’
এছাড়াও, তিনি বলেন, ‘‘বগুড়ায় জুলাই আন্দোলনে ১৫ এর অধিক শহীদ হয়েছে। আমরা সেই শহীদদের উদ্দেশ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যাতে দেশে বৈষম্যহীন, সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পুরনো খেলায় নতুন প্লেয়ার হয়ে আসিনি, আমরা খেলার নিয়ম বদলাতে এসেছি। বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ম বদলাতে হবে। যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষত বগুড়ার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’’
পদযাত্রাটি বেলা সোয়া ১২টায় বগুড়ার কলোনি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে শুরু হয় এবং শহরের সাতমাথায় এসে শেষ হয়। পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা নেতারা।
এর আগে সকাল ১০টায় বগুড়া পর্যটন মোটেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করেন।





