নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৪ বছরের মেয়ের সাথে বিয়ে না দেয়ায় বাবাকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিতু ইসলাম। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক জিতু ইসলামসহ আরও দুইজন সহযোগি মতি ও বিপ্লবকে আটক করে।
গত শনিবার বিকালে বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। শিববাটি শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সাজু মিয়ার ছেলে শাকিল আহমেদ (৪০)। তিনি পেশায় একজন রিকশা চালক।
বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ জোবায়ের এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও রাত সোয়া ৯টার দিকে বগুড়া সদর থানায় বাদী হয়ে নিহত শাকিলের স্ত্রী ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের নামে মামলা করেন।
এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেনবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বগুড়া জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক জিতু ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করেন।
জানাগেছে, নিহত শাকিল তার পরিবার নিয়ে রানা নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিতু ইসলাম শাকিলের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে শাকিল নাকজ করেন। পরিবারের স্বজনদের দাবী জিতু ইসলামের এমন প্রস্তাব বার বার না করা হলে সে শাকিলের প্রতি ক্ষিপ্ত হন। গত শনিবার সকালে এ নিয়ে জিতু ইসলামের সাথে শাকিলের হাতাহাতি হয়। পরে বিকালে জিতু ইসলাম ও তার কয়েকজন সহযোগি শাকিলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, শিববাটি করতোয়া নদীর পাড়ে শাকিলকে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের কথাকাটি হয় এক পর্যায়ে জিতু ইসলামসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে ফেলে যান। এতে শাকিল গুরুত্বর আহত হলে এলাকার লোকজন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিলে সেখানে বিকাল ৬টার দিকে শাকিল মারা যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এলাকাবাসি আরও জানান, এ ঘটনায় শুধু মেয়ের বিয়ে ছাড়াও হয়তো জিতুর সাথে শাকিলের পরিবারের কারোর সাথে প্রেম ঘটিত সম্পর্কও থাকতে পারে। তবে জিতু ইসলাম অনেক দিন ধরেই এ পরিবারকে লক্ষ্য করে মাঝে মাঝে শাকিল ও তার মেয়ের সাথে কথা বলে।
বগুড়া ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ জোবায়ের জানান, এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, এ হত্যাকান্ডের পিছনে আরও বিষয় উল্লেখ থাকতে পারে। তবে তদন্ত করার পরে তা জানা যাবে।





