নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়া আত্মগোপনে থাকা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (২০ জুলাই) ডিবি পুলিশের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মেহেদি হাসান ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার গুলশান থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ায় আনা হয়। অভিযুক্ত মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯টি মামলা এবং পূর্বের আরও ১২টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং নাশকতার অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল বাছেদ বলেন, “আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। বগুড়ার বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহিন হত্যাসহ ২১টিরও বেশি মামলা রয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কমরউদ্দিন বাঙ্গি, সেলিম ও আব্দুল মান্নান হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে তার গ্রেপ্তার ও রিমান্ড মঞ্জুর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার ফাঁসির দাবি জানান বিক্ষুব্ধ জনতা। যৌথ বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আমিনুল ইসলামকে পচা ডিম নিক্ষেপ করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ।
আমিনুল ইসলাম বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা। এছাড়াও তিনি বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের সত্ত্বাধিকারী।

“হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, বিষ্ফোরক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের করা তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আমিনুল ইসলাম পলাতক ছিলেন।





