বগুড়া প্রতিনিধি: করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর দখল ও দূষণ বন্ধ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে বগুড়ায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বগুড়া এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা, মৎস্যজীবী, কৃষক, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

নিজেরা করি-এর সমন্বয়কারী ও এএলআরডির চেয়ারম্যান খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান রিপা।
প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা এবং অব্যাহত দখলের কারণে করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর পরিবেশ ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ্যের কারণে নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য, কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, নদী দূষণের ফলে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, গবাদিপশুর নানা রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। জীবিকা সংকটে পড়ে অনেক জেলে ও মৎস্যজীবী পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন বলেও তারা জানান।
বক্তারা করতোয়া নদী রক্ষায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুলশী এলাকার স্লুইস গেট অপসারণ, সব শিল্পকারখানায় কার্যকর ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) চালু রাখা, দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত পরিবেশগত মনিটরিং এবং নদী রক্ষায় পৃথক টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান হক জানান, করতোয়া নদী পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং নদীকেন্দ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, “নদী দখল ও দূষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সরকার, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই করতোয়া ও ফুলজোড় নদীকে রক্ষা করা সম্ভব।”
গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, নদী শুধু একটি জলাধার নয়, এটি দেশের পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। তাই করতোয়া ও ফুলজোড় নদীকে রক্ষায় দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।





