রবিউল ইসলাম রবি, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল ধান ও আলু হলেও সরিষার ফুলে ফুলে দুলছে কৃষকের বিস্তীর্ণ জোড়া ফসলের মাঠ। এতে উঁকি দিচ্ছে কৃষকের লাভের স্বপ্ন। সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে বিমোহিত ফসলের প্রান্তর। ফসল হিসেবে সরিষা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ উপজেলায়।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ করা হয়েছে ৬৫০ হেক্টর জমিতে। উচ্চ ফলনশীল জাত বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-১৪ ও বিনা সরিষা ১১চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিহার, মাঝিহট্ট, বুড়িগঞ্জ, পিরব, কিচক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সরিষা চাষ। কম সময় ও স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অধিক হারে সরিষা উৎপাদনে ঝুঁকেছেন শিবগঞ্জের কৃষকরা। এতে কৃষকদের লাভের পাশাপাশি দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি মিটবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষক মাসুদ রানা বলেন, আমি ২বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এই ফসল উৎপাদনে খরচ কম। লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষাবাদের প্রতি আমাদের কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
কৃষক মাফিজুল ইসলাম বলেন, সরিষার চাষে কষ্ট কম লাভ বেশি। এবার আড়াই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে গড়ে চার হাজার টাকা খরচ হবে। আশা করছি বিঘা প্রতি ৬মণ সরিষা পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য ১৮-২০ হাজার টাকা হবে আশা করছি। বাজারে সরিষা তেলের অনেক চাহিদা রয়েছে। নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি তেল বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়া যাবে। দামগাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যেই চাষকৃত সরিষার বেশির ভাগেরই দানা ও ফুল এসে গেছে।
এবিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান দৈনিক জয়যুগান্তরকে বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন ভাল হবে। গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ কম হয়েছে। এর কারণ এবার ১হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ বেশি হয়েছে। আমরা কৃষকদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষকদের যেকোন পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।





