নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর লক্ষীমণ্ডল গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে শ্বশুর ও পুত্রবধূ হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১২ টায় বিশেষ অভিযান করে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেরুঞ্জ গ্রামের মোঃ আব্দুল করিমের ছেলে মোঃ আব্দুল হাকিম (৩৪) ও একই উপজেলার লহ্মীমন্ডপ গ্রামের মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুল মান্নান (৫০)কে এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর জামাল গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হন আরেক আসামী আদমদীঘি উপজেলার বাশিকোড়া গ্রামের মৃত লছির আকন্দের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪১)।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানিয়েছেন, আসামীরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে নিহত আফতাব আলীর বাড়ীতে কৌশলে প্রবেশ করে। আফতাব আলীর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বারবার ডাকাডাকি করলে তিনি বের হন এসময় তারা আফতাব আলীর ডান চোখের উপরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পরে যান এবং তাৎক্ষনিক তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে শ্বাস রোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। এ অবস্থায় পুত্রবধু রিভা জানতে পেরে দরজা খুললে তাকে একই অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রিভার শিশু কন্যাকে চোখ বন্ধ করতে বললে সে ভয়ে চুপ করে থাকে। এসময় কাছে থাকা স্বর্ণের বিভিন্ন গয়না ও নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার এবং মোবাইল ফোন নিয়ে মূল গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত আফতাব আলীর মেয়ে তহমিনা বিবি বাদী ওই দিন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা করেন।

পুলিশের তথ্য মতে, আফতাব আলীর ছেলে নিহত রিভার স্বামী মোঃ শাজাহান আলী একজন সৌদি প্রবাসি। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় আব্দুল মান্নান এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন। তিনি অনেকদিন ধরে নিহত আফতাব আলীর বাড়িতে কাজ করতেন। এক সময় বাড়ির লোকজন জানতে পারে যে, আব্দুল মান্নান নেশাগ্রস্থ ও নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। এ অবস্থায় আফতাব আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ রাগে আব্দুল মান্নান ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিম ও রফিকুল ইসলামের সাথে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিম আরও ৭টি মামলার আসামী বলে জানান পুলিশ।





