নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ায় মরিচের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। মরিচ চাষের জমিতে এবার অনেকেই ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল চাষ করেছে। এবার চাষ কম হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষমাত্রা পূরণ হয়েছে। সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে এবারও মরিচের ফলন ভালো হলেও কৃষকের মনে স্বস্তি নেই।
এ বিষয়ে কৃষক মোঃ আবু সাঈদ, তিনি বলেন, প্রতি মণ মরিচ ৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গুরুত্বপূর্ণ এ ফসল চাষ করে কোন লাভ না হওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষ করছে। এ ফসলে শ্রম ও খরচ দুই-ই বেশি।
সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলসহ এবার মরিচ চাষ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ২শ বিঘায়। আর বগুড়ায় এ বছর প্রায় ৪৮ হাজার বিঘায় মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা হলেও চাষ কমেছে কমপক্ষে সাড়ে ৭শ বিঘা। পাইকারি দরে প্রতি কেজি লাল মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা। যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত । পাইকারি ও খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও কম। মসলা প্রস্ততকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এবার মরিচ কেনা শুরু না করায় বাজার দর কমেছে বলছেন কৃষকেরা।
সারিয়াকান্দির চরবাটিয়া আরেক কৃষক মোঃ জাহাঙ্গির আলম জানান, প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেন তিনি। কিন্তু এবার দাম না থাকায় মরিচ ভেঙ্গে দিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মোঃ মতলুবর রহমান বলেন, বগুড়ায় এ বছর প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার মণ শুকনা মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় এবার ৮ হাজার ৮৭৫ মণ বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, সারাদেশে এ বছর মরিচ চাষ হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার বিঘায় আর শুকনা মরিচ ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬১ লাখ ৩৬ হাজার মণ। এবার বেশি চাষ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার বিঘা আর শুকনা মরিচের ফলন বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার মণ বেশি।





