নিজস্ব প্রতিবেদক: শীত মৌসুম এলেই গ্রামবাংলার খেজুর গাছগুলোতে শুরু হয় ব্যস্ততা। ভোর থেকে একজন শ্রমিক খালি পায়ে কিংবা সামান্য দড়ির ভরসায় উঁচু খেজুর গাছে উঠে সংগ্রহ করছেন খেজুর রস ও ফল। ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো মানুষ।

খেজুর রস ও খেজুর গুড় শীতকালের একটি জনপ্রিয় খাদ্যপণ্য। গ্রামাঞ্চলে এই পণ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষক। স্থানীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব থাকলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখনো বড় একটি উদ্বেগের বিষয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা কোনো ধরনের আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই গাছে ওঠেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়, যা কখনো কখনো গুরুতর আহত হওয়ার কারণও হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী পেশাটি আরও নিরাপদ ও টেকসই করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর সংগ্রহ শুধু একটি মৌসুমি পেশা নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই পেশার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত নাটোরের সিংড়া চলন বিলের কলম গ্রামের গাছিরা। শীতের আগমন শুরু হতে না হতেই কলম গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। এ সব গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে ছয় মাস সংসার চলবে। আগামী ৫ মাসে লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় হবে বলে আশা গাছিদের।





