রিজভী হকঃ উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় পুরোদমে চলছে বর্ষালী জাতের আমন ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। উপজেলার নজিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। বিশেষ করে আদিবাসী নারী ও পুরুষরা দলবদ্ধভাবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধান রোপণের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষালী একটি আমন ধানের জাত, যা অল্প সময়ে অধিক ফলন দেওয়ায় কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চারা রোপণের পর মাত্র ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই ধান পরিপক্ব হয়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৩ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

কৃষকেরা জানান, ইরি-বোরো ধান কাটার পরপরই কিংবা বর্ষা মৌসুমে বর্ষালী ধানের চাষ করা সবচেয়ে উপযোগী। এ কারণে প্রতি বছর এ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের ধান চাষের পরিমাণ বাড়ছে। তবে আবহাওয়া ও এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কারণে চারা রোপণের সময়ে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়।
নজিপুর এলাকায় দেখা যায়, আদিবাসী নারী ও পুরুষরা একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। তারা বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৪শ টাকা চুক্তিতে এ কাজ করছেন। অনেকের জন্য এটি মৌসুমি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

কৃষকরা জানান, সময়মতো রোপণ ও অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবারও বর্ষালী ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ ফলন ও স্বল্প মেয়াদের কারণে বর্ষালী ধান সাপাহার অঞ্চলের কৃষিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।





