নিজস্ব প্রতিবেদক: ফাল্গুনের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে আগুনরাঙা পলাশ। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে বাংলার মাঠ-প্রান্তর, শালবন ও পাহাড়ি ঢালজুড়ে এখন লাল-কমলার উৎসব। পত্রহীন ডালে থোকায় থোকায় ফুটে ওঠা পলাশ ফুল যেন ঘোষণা দিচ্ছে- বসন্ত এসে গেছে।
মাঘের শেষ থেকেই পলাশের রঙে রাঙতে শুরু করে প্রকৃতি। বৈজ্ঞানিক নাম Butea monosperma- এই গাছটি গ্রামীণ জনপদে বেশি দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছের ডালে আগুন জ্বলছে। তাই পলাশের আরেক নাম ‘বনের আগুন’।

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়, দিনাজপুরের রামসাগর কিংবা পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বসন্ত এলে পলাশ দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে পলাশ-রাঙা প্রান্তরের ছবি।
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে পলাশের বিশেষ স্থান রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তবন্দনায় পলাশকে রঙের আবেগে তুলে ধরেছেন। একইভাবে কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতায়ও বসন্তের রক্তিম আবেশে পলাশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন-এ বসন্তোৎসবের সময় পলাশ ফুল বিশেষভাবে চোখে পড়ে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসন্ত উদ্যাপনে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা রঙে-গানে মেতে ওঠেন।
একসময় পলাশ ফুল শুকিয়ে তৈরি করা হতো প্রাকৃতিক রং, যা দোল উৎসবে ব্যবহার করা হতো। পরিবেশবিদরা বলছেন, কৃত্রিম রঙের বদলে প্রাকৃতিক উপাদানে ফিরে গেলে পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পলাশ গাছ মৌমাছি ও পাখিদের আকৃষ্ট করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক। ফলে শুধু সৌন্দর্য নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও এই গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
বসন্তে ফুটেছে পলাশ-এই দৃশ্য শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, বাঙালির আবেগেরও প্রতিচ্ছবি। আগুনরাঙা পলাশ জানিয়ে দেয়, ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে জীবনেও আসে নতুন সম্ভাবনা। বসন্তের এই রঙিন বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।





