নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৈতৃক ভিটার চলাচলের রাস্তা ও পারিবারিক পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা, মারপিট এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
১৯ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টায় নন্দীগ্রাম থানার কালিশ পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ রনি বেগম (২৩) বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিশ গ্রামের বাসিন্দা রনি বেগমের বাবার বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন (৪০), মোছাঃ হালিমা বেগম (২৫), মোঃ আজম আলী (২২) এবং মোছাঃ আরজুমান বেগম (৩৬)-দের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

গত ১৯ জুন সন্ধ্যায় বিবাদীরা রনি বেগমের মা মোছাঃ বানু বেগমের চলাচলের রাস্তা কাটা শুরু করলে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিবাদীরা বানু বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এতে বাধা দিলে বিবাদীরা লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফোলা জখম করে। উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত। বানু বেগমকে বাঁচাতে তার স্বামী হক সাহেব আলী, মেয়ে রনি বেগম, খালা মোছাঃ কোহিনুর বেগম, বড় মামা আমু, মামাতো ভাই ইকবাল ও ভাবী মোছাঃ কাজলী বেগম এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাদের ওপরও লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মারপিটের সময় ৪নং বিবাদী আরজুমান বেগম জোরপূর্বক, বাদী রনি বেগমের গলা থেকে ৫ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং তার খালা কোহিনুর বেগমের ডান কান থেকে ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের দুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এছাড়া বিবাদীরা বাদীর বাবার টিনের বেড়া ও ডিশ লাইনের তার কেটে ফেলে ক্ষতিসাধন করে এবং তাদের দুটি গবাদি পশুর গলায় বিষ ঢেলে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আহতদের দ্রুত নন্দীগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে।





