নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় সরকারি অনুদান ও স্বীকৃতি পেয়েছে বগুড়ার দুটি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।
এতে রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বিভাগীয় পর্যায়ে এবার রাজশাহী বিভাগের ১০টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদানের জন্য মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর চারটি, বগুড়ার দুটি এবং নওগাঁর চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বগুড়া থেকে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো শহরের তিনমাথা এলাকার ‘রেনেসা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ এবং বারপুর এলাকার ‘চেঞ্জ দ্য লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’।
বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাঃ জিললুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলায় ১৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া নতুন করে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, কার্যকর কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রেনেসা ও চেঞ্জ দ্য লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে সরকারি অনুদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে সারা দেশের ৮২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। এই অনুদান কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
উপপরিচালক মোহাঃ জিললুর রহমান বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনুদান, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার গুণগত মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।





