আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক সংগ্রামী মানুষের নাম শাহিনুর রহমান শাহিন। জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেননি তিনি। গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে হাট-বাজারে ঘুরে আতর, সুরমা, সেন্ট ও টুপি বিক্রি করে সততার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের শিবপুর গ্রামের হতদরিদ্র আজিমউদ্দীন প্রামানিকের বড় ছেলে ৪৬ বছর বয়সী শাহিন। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তিনি একটি কওমি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগ পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। জন্ম থেকেই দুই চোখে ঝাপসা দেখতেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি আরও ক্ষীণ হয়ে বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছেন। রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে তাকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়।

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় শাহিন প্রায় ২৩ বছর আগে সংসার জীবন শুরু করেন। তার প্রথম সন্তান শিহাব জন্ম থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। মাত্র ৯ বছর বয়সে ছেলেটি মারা যায়। বর্তমানে স্ত্রী রিনা বেগম, দুই ছেলে সানজিত ও সাজাইব হাসান এবং মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার তার।
প্রতিদিন আদমদীঘি উপজেলা সদর, নসরতপুর, সাঁওইল, মুরইলসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে আতর, সুরমা, সেন্ট ও টুপি বিক্রি করেন শাহিন। নওগাঁ শহর থেকে পাইকারিভাবে এসব পণ্য কিনে এনে বিক্রি করেন তিনি। এতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ হয়, যা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। পাশাপাশি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে সামান্য কিছু অর্থ পান।
শাহিন বলেন, “জন্ম থেকেই আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা না করে নিজের পরিশ্রমে জীবন চালাতে চাই। কিন্তু প্রতিদিন যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো খুব কঠিন। স্ত্রী-সন্তানদের নতুন কাপড় বা ভালো খাবার কিনে দিতে পারি না।”

তার ব্যবহৃত পণ্য বহনের ব্যাগটি বহুদিনের পুরনো ও ছেঁড়া। পরনের পোশাকও জীর্ণ। তবুও আত্মসম্মান বজায় রেখে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, শাহিন সমাজের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে পরিবার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শাহিনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তিনি আরও সম্মানের সঙ্গে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।





