বগুড়ায় পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে বগুড়ার শাজাহানপুরে পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে এ পূজার আয়োজন করা হয়। ছয় বছর বয়সী রূপকথা সাহাকে দেবী উমার প্রতীক হিসেবে আসনে বসিয়ে পূজা করেন ভক্তরা। এ সময় পূজা দেখতে আশ্রমে বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীরাও সমবেত হন।

মহাষ্টমীর সকালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কুমারী হিসেবে নির্বাচিত রূপকথা সাহাকে দেবীর আসনে বসিয়ে ভক্তরা ফুল, অঞ্জলি ও প্রণাম নিবেদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। এ আয়োজন ঘিরে আশ্রমজুড়ে সৃষ্টি হয় ভক্তিময় পরিবেশ।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজায় একজন কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃশক্তি ও দেবীত্বের প্রতীকী প্রকাশ কল্পনা করে তাঁর আরাধনা করা হয়। মহাষ্টমীতে এ পূজা শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় আচার হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

আশ্রমে পূজা দেখতে আসা ভক্ত নিরাঞ্জন চন্দ্র রায় বলেন, কুমারী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, মাতৃত্বের মহিমা এবং নারীর মর্যাদার বার্তা তুলে ধরা হয়। নারীর মধ্যে নিহিত শক্তি, সম্ভাবনা ও সম্মানের প্রতীকী প্রকাশ ঘটে এ পূজার মাধ্যমে।

শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায় কুমারী পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ঐতিহ্যে এ পূজা নারীর মধ্যে দেবীত্ব উপলব্ধি এবং নারীকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখার চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা, অসম্মান ও বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রেও এ পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কুমারী পূজা দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপস্থিতি ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। দুর্গোৎসব ঘিরে বগুড়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের সমাগম, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

জেলা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বগুড়ার ১২টি উপজেলা ও বগুড়া পৌরসভা এলাকায় মোট ৭৩১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে।