রিজভী হকঃ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে হীরামন টিয়ার। খাবারের সন্ধানে ঝাঁক বেঁধে আসা লালচে-বেগুনি মাথার এই পাখি প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে। পাখিগুলোর খাবারের উৎস সংরক্ষণ এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় যুবক আরিফ আফরান। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
হীরামন টিয়া ইংরেজিতে প্লাম-হেডেড প্যারাকিট নামে পরিচিত। মাথার বিশেষ রঙের কারণে পাখিটি সহজেই অন্য টিয়া থেকে আলাদা করা যায়। স্থানীয়ভাবে এটি তালকেশ টিয়া, পুষ্পকেশ টিয়া বা আলুবোখারা-মাথা পাখি নামেও পরিচিত।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাবারের সন্ধানে আসে হীরামন টিয়ার দল। ভিয়েতনামী লংগান নামের এক ধরনের ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের বীজ পাখিগুলোর পছন্দের খাবার। এই বীজ খেতেই বিভিন্ন স্থানে তাদের আনাগোনা দেখা যায়।
স্থানীয় যুবক আরিফ আফরান বাণিজ্যিকভাবে ভিয়েতনামের লংগান ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ চাষ করেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি লক্ষ করেন, গাছটির বীজ খেতে হীরামন টিয়া সেখানে আসে। বিষয়টি তাঁর মধ্যে পাখি সংরক্ষণ নিয়ে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। এখন পাখিগুলোর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে লংগানসহ বীজ উৎপাদনকারী অন্যান্য উপযোগী উদ্ভিদ লাগানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

হীরামন টিয়া বেশ লাজুক স্বভাবের। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দলবদ্ধভাবে উড়ে দূরে চলে যায়। এ কারণে পাখিগুলোর কাছাকাছি যাওয়া বা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। সাধারণত ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করায় একসঙ্গে অনেক পাখির উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।
আরিফ আফরানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এপ্রিল মাসে ভারত থেকে খাবারের সন্ধানে এসব পাখি এলাকায় আসে। জুলাই মাসে তারা অন্যত্র চলে যায়। এ সময়টাতে পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আরিফ আফরান বলেন, হীরামন টিয়ার আনাগোনা তাঁকে পাখি সংরক্ষণে উৎসাহিত করেছে। পাখিগুলোর জন্য খাবারের উপযোগী গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে কীভাবে একটি নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পাখির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিতভাবে উপযোগী গাছ লাগানো, পাখির বিচরণক্ষেত্রে বিরক্ত না করা এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বদলগাছীতে পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

হীরামন টিয়াকে ঘিরে আরিফ আফরানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে পাখির স্বাভাবিক আবাসস্থল রক্ষা, উপযোগী উদ্ভিদ নির্বাচন এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর।





