বগুড়ায় চুরি হওয়া ৩ মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ মোট তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় কথিত চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো: আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩০), মো: শাহজাদা মিয়া এবং মো: জাহাঙ্গীর আলম। আরিফুল ইসলাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মালিপাড়া পূর্বপাড়ার মো: জিল্লুর রহমানের ছেলে। শাহজাদা মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান তার বাবাকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বগুড়া-হ-১৭-০১০৪-এর বাজাজ ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেলটি রেখে ঘাড় লক করে তিনি হাসপাতালের সপ্তম তলায় যান।

বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নিচে ফিরে এসে দেখতে পান, সেখানে রাখা মোটরসাইকেলটি নেই। পরে এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানায় মামলা নম্বর-৭৪, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ফ্লাইওভারের নিচ থেকে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুল ইসলাম শজিমেক হাসপাতালের সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি করে শাহজাদা মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট বাজারের মাংস হাটি এলাকা থেকে শাহজাদা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে শাহজাদা মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ী বাজারের ব্র্যাকমোড় সংলগ্ন একটি মেকানিকের দোকান থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া বাজাজ ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানাধীন বালারহাট বাজারে জনৈক তাপসের দোকানের সামনে পাকা সড়কের ওপর থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও দুটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি শজিমেক হাসপাতালের সামনে থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল। বাকি দুটি মোটরসাইকেলের মালিকানা ও এগুলো চুরির সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার শাহজাদা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।