নূর মোঃ কামরুল হাসান: বগুড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জেলার অর্ধেকের বেশি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তবে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি করছেন রেশনিং পদ্ধতিতে। কিন্তু ইতোমধ্যে সরকার রেশনিং হিসেবে তেল বিক্রি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনভর জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। কোথাও ‘জ্বালানি নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও পাম্প মেশিন ঢেকে রাখা হয়েছে কাপড় দিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, জেলায় মোট ৭২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি চলছিল। এর মধ্যে ঈদের আগের রাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে অল্প সময়েই অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়। ঈদের দিন থেকেই এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে। পরদিন রোববার কিছু ফিলিং স্টেশনে সীমিতভাবে তেল বিক্রি করলেও সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় একে একে জেলার প্রায় অর্ধেকের বেশি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেন মালিকেরা।
বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, প্রতিটি ট্যাঙ্কার ট্রাকে সাধারণত ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের জন্য তিনটি চেম্বার থাকে। কিন্তু সম্প্রতি শুধু ডিজেল পেয়েছেন, বাকি দুটি চেম্বার খালি। এর ফলে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।

ফিলিং স্টেশন গুলোতে দৈনিক পেট্রলের চাহিদা ৭শ থেকে ১৫শ লিটার, অকটেন ৩৫০ থেকে ৭শ লিটার, আর ডিজেল দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার। ঈদের আগে স্বাভাবিক সরবরাহের অর্ধেক পেয়েছিলেন, যা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।
বগুড়ার তিনমাথার রেলগেটের নিকটবর্তী মেসার্স নর্থ বেঙ্গল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সুলতান আহমেদ রতন বলেন, ”জ্বালানি তেল সংকট সৃষ্টির পূর্বে প্রতি সপ্তাহে পাম্পে ৩৬ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করতো, সেখানে ঈদের আগে প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করেছে ডিপো, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে সাড়ে ৪ হাজার লিটারের জায়গায় ৩ হাজার লিটার সরবরাহ করছে। আমরা চাহিদা মোতাবেক ডিপো থেকে তেল না পেলে কিভাবে সরবরাহ করব?”

শহরের ছিলিমপুরে অবস্থিত বগুড়া ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো: আতাউর রহমান জানান, ”বাঘাবাড়ি ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে না ফলে আমরা ফিলিং স্টেশনে তেল নাই লিখে রাখছি। জ্বালানি তেল পেলে আমরা তা সরবরাহ করব।” তিনি আরো বলেন, ”জ্বালানি তেল সংকটের খবর শুনে বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের একটা অংশ বিভিন্ন পাম্প থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মোটরসাইকেল ট্যাঙ্ক পূর্ণ করছে, ফলে অনেকে ফিলিং স্টেশনের তেল শূন্য হচ্ছে।”
অতিথি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় শহরের ঠনঠনিয়া থেকে মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সড়কে কি যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে? যানবাহন চলছে। তাহলে এই যানবাহনগুলো তেল পেলো কোথায় থেকে ? তিনি অভিযোগ করে বলেন, ”ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দিলেই পাওয়া যাচ্ছে তেল।”
এ বিষয়ে কথা হয় অতিথি ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মী সাইদুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, ”আমরা তেল পাব তেল বিক্রি করব ফিলিং স্টেশনের তেল না থাকলে আমরা কিভাবে সরবরাহ করব? এই কথাটাই আমরা বাইকারদের বুঝাতে পারতেছি না।”

মেহেরা সার্ভিস স্টেশন এর ম্যানেজার মো. মামুনুর রশিদ জানান, ”এই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক আসায় দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে ।”
বগুড়া ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি হায়দার আলী বলেন, ”চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। সকাল ১০টা পর্যন্ত বিক্রি করেছি, এরপর মজুত শেষ হয়ে গেলে বিক্রি বন্ধ করতে হয়েছে। তেল পেলেই আবার বিক্রি শুরু করব।”
এ বিষয়ে রাজশাহী পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, ”জেলায় ৭২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেক প্রায় বন্ধ রয়েছে। বাকি ফিলিং স্টেশন গুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ চলছে। আজ থেকে তেল সরবরাহ শুরু হইছে কিছু দিনের মধ্যে সংকট পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে তিনি জানান। সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় সংকট। “আজ কিছু তেল আসছে, যা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল করবে।”
বিপিসি’র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে অনিয়মিত সরবরাহে পাম্পগুলো চাহিদার তুলনায় কম বা বেশি তেল পায়। ঈদের দিনে উচ্চ চাহিদায় মজুত আরও কমে যায়। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৭২ পাম্পের ৩৫টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।





