নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি মৌসুমে বগুড়ায় লাল মরিচের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মরিচের আবাদ বেড়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর চরাঞ্চল- সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট ও গাবতলী উপজেলায় ব্যাপক হারে মরিচের চাষ হয়েছে।

রঙে টকটকে লাল, আর দামে যেন ঝাল- এবার বগুড়ার বাজারে শুকনা লাল মরিচ বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে মণপ্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকায়। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারদরও সন্তোষজনক থাকায় জেলার মরিচ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। মাঠ থেকে মরিচ সংগ্রহ করে খোলা আকাশের নিচে শুকানোর দৃশ্য এখন গ্রামজুড়ে চোখে পড়ে।
সারিয়াকান্দির কৃষক শাহিন বলেন, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারদর ঠিক থাকলে লাভ হবে।”

স্থানীয় আড়তদাররা জানান, বগুড়ার মরিচের রঙ উজ্জ্বল ও ঝাল বেশি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ যাচ্ছে। বর্তমানে শুকনা লাল মরিচের পাইকারি দাম তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও কাঁচা মরিচের দাম ওঠানামা করছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেশি। এছাড়া হঠাৎ বৃষ্টি হলে খোলা আকাশের নিচে শুকানো মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আধুনিক সংরক্ষণাগার না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না।
ধুনটের এক কৃষক বলেন, “সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে আমরা আরও ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষকের আয় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মরিচ প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তুললে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকদের জন্য এটি হতে পারে একটি লাভজনক মৌসুম।





