বগুড়ার ৭টি আসনে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০১টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ অর্থ্যাৎ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও এ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি প্রায় কেন্দ্রই থাকবে বিশেষ নজরদারিতে।

জানাগেছে, এর মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৭৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। সবমিলিয়ে পুরো জেলায় ১৯০টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। এবং ৩১০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সবচেয়ে কম গাবতলীতে মাত্র একটি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়েছে। আর বাকি ৪৮৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

তবে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান জানিয়েছেন, “সবগুলো কেন্দ্র বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে।”

আর বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, “এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনে সোনাতলায় ৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩১টি ও সাধারণ কেন্দ্র ২১টি। এ ছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৭২টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৪১টি। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে, ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪জন।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ভোটার আছে মোট ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫জন।  ১১৪টি ভোটকেন্দ্রের এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৮৪টি।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) আসনের আদমদীঘি উপজেলায় কেন্দ্র রয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি ও সাধারণ কেন্দ্র ১১টি। আর দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি ও সাধারণ কেন্দ্র ১২টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩জন।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম ও কাহালু) আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলায় মোট ৪৯টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৩১টি। আর কাহালু উপজেলায় ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩১টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ও সাধারণ কেন্দ্র সাতটি। ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ ভোটার এবার ভোট দিবেন এ আসনে।

বগুড়া-৫ (শেরপুর ও ধুনট) আসনের শেরপুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৯৯টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৫৩টি। এ ছাড়া ধুনট উপজেলায় ৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩টি ও সাধারণ কেন্দ্র ১৪টি। এ দুই উপজেলার বগুড়ার সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে। এ আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন।

এ দিকে বগুড়া সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩জন আর ভোটকেন্দ্র রয়েছে মোট ১৫০টি। এরমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৯৭টি।

আর বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনের গাবতলী উপজেলায় মোট  ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৯৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ১টি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৮৩টি। এ ছাড়া শাজাহানপুর উপজেলায় ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৬ টি আর সাধারণ কেন্দ্র ২৯টি। ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯২ জন ভোটার ভোট দিবেন এ আসনে।

পুলিশ জানিয়েছে, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য, র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে আনসার সদস্যও।

এ ছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ টিমও মাঠে থাকবে সারাদিন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসব আসনে ভোটার রয়েছেন মোট ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন ও নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন। এ হিসাবে নারী ভোটার বেশি রয়েছেন ২০ হাজার ১৫৬ জন আর পুরো জেলায় হিজড়া রয়েছে ৪২জন।