বরিশালের ‘লঞ্চ’ ডুবিয়ে দেবে চিটাগং

অনলাইন ডেস্কঃ চিটাগং কিংসের জার্সি গায়ে কয়েকজন বন্ধু স্টেডিয়ামে এসেছেন। স্টেডিয়ামে ঢুকেই তাদের হুঙ্কার ‘আজকে বরিশালের ‘লঞ্চ’ ডুবিয়ে দেওয়া হবে।’ পেছন থেকে বরিশালের সমর্থকরা পাল্টা হুঙ্কার দিলেন বরিশালের ‘লঞ্চ’ কারা ডুবিয়ে দেবে- সেটি আমরা দেখে নেবো, তোমাদের দলে কে আছে? প্রতি উত্তরে শরিফ নামের এক চিটাগং ভক্ত জানালেন, ‘আমাদের দলের শামীম-মিঠুনরাই যথেষ্ট ম্যাচ জেতাতে, আসো মাঠে খেলা হবে!’ এভাবেই স্টেডিয়াম পাড়ায় বরিশাল ও চিটাগং সমর্থকদের মধ্যে খুনসুটি চলছে।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিপিএল ১১তম আসরের ফাইনাল মাঠে গড়াবে। সন্ধ্যা ছয়টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচ ৫-৬ ঘণ্টা আগে থেকেই দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। শুধু টিকিট হাতে থাকা দর্শকরাই স্টেডিয়ামের সামনে ভিড় করেনি, যারা টিকিট পাননি তাদের আনাগোনাও ছিল অনেক। ফাইনালকে ঘিরে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামের পাঁচটি গেট ঘিরে কালোবাজারিদের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে কালোবাজারিদের আধিপত্য দেখা গেছে। বিপিএলের ফাইনালের টিকিট নিয়ে হাহাকার ফুটে উঠেছে সর্বত্র। টিকিট নামক সোনার হরিণ খোঁজে গত দুই দিন ধরে হন্যে হয়ে ঘুরছেন দর্শকরা। কিন্তু কোথাও টিকিট নেই।

অনলাইনে টিকিট না পেয়ে রাকিব ও আসিফ নামের দুই বন্ধু চিটাগং থেকে ঢাকায় আসেন বৃহস্পতিবার। মিরপুরে একটি হোটেলে উঠেন তারা। আজ সকাল থেকে টিকিটের খোঁজে স্টেডিয়ামের আশপাশে ঘুরেছেন তারা। কালোবাজারিতে টিকিট পেলেও দাম অনেক। সাধারণ গ্যালারির সর্বনিম্ন ৩০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা সাধারণ গ্যালারির টিকিটের। ঠিক এই কারণেই এর দামও খানকিটা বেশি। ক্লাব হাউজের ৮০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ৩০০০ টাকার টিকিট সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। কিছু করার নেই দেখে, উচ্চমূল্যে টিকিট কেটেছেন দুই বন্ধু, তবুও প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে উপস্থিত থাকতে চান তারা।

স্টেডিয়ামের এক ও দুই নম্বর গেটের মধ্যবর্তী স্থানে কালোবাজারিদের একটি গ্রুপকে সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে। তাদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতেই তাদের মধ্যে একজন বলে উঠেন, ‘ভাই টিকিট লাগবে নাকি?’ তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলো কীভাবে টিকিট ম্যানেজ করেন? সক্রিয় এই গ্রুপটি অবশ্য তাদের সোর্স বলতে নারাজ।

এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সাধারণ দর্শকদের টিকিট ম্যানেজ করতে হচ্ছে। যারা অনলাইনে কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ের সোর্সে টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা নিজেদের ভাগ্যবান বলতেই পারেন। কেননা স্টেডিয়ামে যে পরিমাণ দর্শক, তার চেয়ে কোনও অংশে কম নয় বাইরের অবস্থা। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের ৪ ও ৫ নম্বর গেটে টিকিটিবিহীন দর্শকদের ভিড়টা বেশি।

যারা টিকিট ম্যানেজ করতে পারেননি, তারা প্রিয় দলকে মাঠে বসে সমর্থন করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন। কিন্তু যারা টিকিট নামক সোনার হরিণের দেখা পেয়েছেন, তাদের আনন্দের সীমা নেই। গেট খোলার ৫-৬ ঘণ্টা আগে থেকেই স্টেডিয়ামের সামনে উপস্থিত হন ভক্তরা। বেলা তিনটার দিকে স্টেডিয়ামে ঢোকার ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকরা হুড়মুড় করে ঢুকতে থাকেন। চিটাগং কিংস ও ফরচুন বরিশালের লড়াইয়ে কাগজে-কলমে এগিয়ে বরিশাল। গ্যালারিতেও এগিয়ে বরিশাল। স্টেডিয়ামে যেন লাল উৎসব। লাল জার্সিতে স্টেডিয়ামের গ্যালঅরিতে জোয়ার বইছে।

এক নম্বর গেট দিয়ে বড় একটি গ্রুপকে দেখা গেলো। এই গ্রুপে ফরচুন বরিশাল ও চিটাগং কিংসের সমর্থকরা আছেন। তবে সেখানে সংখ্যালঘু হয়ে আছে বরিশাল! চিটাগং কিংসের সমর্থকদের সংখ্যাটাই বেশি ছিল। দুই গ্রুপ মিলে ঝগড়া লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা। চিটাগং সমর্থকদের আশা তাদের ক্রিকেটাররা আজকে বরিশালের ‘লঞ্চ’ ডুবিয়ে দেবেন। অন্যদিকে বরিশালের সমর্থকদের আশা, দুই ট্রফি নিয়ে লঞ্চে করে বরিশাল যাবেন তামিমরা। আজ সন্ধ্যার জমজমাট ফাইনাল শেষে বোঝা যাবে মাঠে ও মাঠের বাইরের লড়াইয়ে কারা জেতে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *