বগুড়ায় বেড়েছে চিকন সেমাইয়ের কদর, ঈদকে ঘিরে জমজমাট বাজার

মোঃ রিজভী হক: আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ায় বেড়েছে ঐতিহ্যবাহী চিকন ও লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা। জেলার বিভিন্ন কারখানায় এখন চলছে দিন-রাত উৎপাদন, আর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ার সেমাইয়ের স্বাদ ও মানের কারণে দেশের প্রায় সব জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চিকন সেমাইয়ের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। অনেকেই ঈদের আগেই বেশি করে কিনে সংরক্ষণ করছেন।

জানাগেছে , বগুড়ার প্রায় চার শতাধিক কারখানায় এখন পুরোদমে সেমাই উৎপাদন চলছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সেমাই বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে বিক্রিও বেড়েছে গত বছরের তুলনায় বেশি।

শুধু দেশেই নয়, বগুড়ার সেমাই এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা তৈরি রয়েছে, এ শিল্পকে আর সম্প্রসারণ করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে অনেক কর্মসংস্থান বাড়বে।

এদিকে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কয়েক কোটি টাকার সাদা চিকন সেমাইয়ের ব্যবসার আশা করছেন কারখানার মালিকরা । জেলার সাদা চিকন সেমাইর কদর বেড়েই চলছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচেছ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি ঘরে নারীরা চিকন সেমাই তৈরি করে আসছেন। আধুনিক মেশিনে মানসম্মত উপায়ে তৈরি হচ্ছ এসব সাদা চিকন সেমাই। সেমাই তৈরি, রোদে শুকানো এবং মোড়কজাত করার কাজে অন্তত ৪শতাধিক নারী সম্পৃক্ত।তারা বলছেন রোজার এক থেকে দেড়মাস আগ থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে চিকন সেমাইয়ের অর্ডার আসতে শুরু করে। পাইকারি সাদা চিকন সেমাই ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ শিল্পকে ঘিরে জেলার আশপাশে বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে সেমাই গ্রাম।

ক্রেতারা বলছেন, বগুড়ার চিকন সেমাই রান্না সহজ, স্বাদে আলাদা এবং অতিথি আপ্যায়নে এটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাই ঈদের বাজারে অন্য সেমাইয়ের তুলনায় এটি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

তবে এদিকে কিছু অসাধু কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি এক অভিযানে এমন একটি কারখানাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পেতে পারেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী চিকন সেমাই এবারও ঈদ বাজারে শীর্ষে রয়েছে, আর এর চাহিদা দিন দিন আরও বাড়ছে।