বগুড়া প্রতিনিধি: আওয়ামী সরকার ও তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি দেশে সঠিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করণে এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রথমে তাদের উচিত ছিল জনগণের সাথে বসে তারা কী চায় সেটা শোনা। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলা। তাহলে আগামী স্পষ্ট হতো দেশের মানুষ কী নিয়ে এ সংগ্রাম করেছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা যে শপথ নিয়েছেন সেটা ওই ফ্যাসিস সরকারের সংবিধান অনুসারেই করেছেন বলে উল্লেখ করেন কবি, মানবাধিকার কর্মী ও পরিবেশবাদী ফরহাদ মজহার। বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার সময় বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সমতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফরহাদ মজহার। এসময় তিনি ৭২ এর সংবিধান নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। ড. কামাল হোসেন সংবিধানে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা পরিবর্তন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে গণতন্ত্র হলো জনগণের অভিপ্রায়করণ অভিব্যক্তি। কিন্তু উনি সেটা করেননি। উনার (ড. কামাল হোসেন) কাছে যেটা বোধগম হয়েছে সেটাই করেছেন। কারণ ড. কামাল হোসেনতো জনগণের কাছে যাননি তাহলে তিনি তাদের ভাষা কিভাবে বুঝবেন।’
তবে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারও ৭২ এর সংবিধান নিয়ে এখনও পরে আছেন। দেশে সঠিক গণতন্ত্র ফেরাতে হলে প্রথমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এছাড়াও যে সব রাজনৈতিক দলগুলো বারবার নির্বাচনের কথা বলেছেন তারা ওই ৭২ এর সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন চাইছেন। কিন্তু এসব রাজনৈতিক দলের প্রথমে কাজ হলো বর্তমান সরকারের সাথে বসে গণপরিষদ গঠন করে কিভাবে জনগণের অধিকার রক্ষা হবে সে বিষয়ে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, ‘এখনও আওয়ামীলীগের ফ্যাসিসরা রয়েছে যাদেরকে এখনও রক্ষা করা হচ্ছে। যারা এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে আর বহু রক্ত ঝড়েছে তারা কী আবারও ওই রাষ্ট্র গঠন চাইছে? না তাদের দাবী ও ভাষা বুঝতে হবে। জাতীয় নির্বাচন মনে সমস্যার সমাধান নয়।’
নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নতুন করে বাংলাদেশকে গঠন করতে হবে। আগে গণপরিষদ তৈরি করে মানুষের অধিকার ফেরাতে হবে। যেখানে কোন সংখ্যালঘু থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন জনগণকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করতে হবে। এবং প্রতিটা জায়গায় সংস্কার করতে হবে।’
ফরহাদ মজহার আরও উল্লেখ করেন যে, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিবর্তন হলেও তার পূর্ণ বিজয় এখনও হয়নি। এই রাষ্ট্র আসার সাথে সাথে একটা সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়ে গেছে। আইনের কথা বলে এই বিপ্লবকে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাধার মুখে পরেছে।’





