নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়াতেই যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। ঘরের বাইরে বের হওয়া দায়, আর ঘরের ভেতরেও স্বস্তি নেই। তীব্র গরমের সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ চলে গেলে থেমে যায় ফ্যানের ঘূর্ণন, অচল হয়ে পড়ে শীতলতার আধুনিক সব ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের কাছে পুরোনো দিনের তালপাতার হাতপাখাই হয়ে উঠেছে স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন।
বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা ও রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি গ্রামেও তালপাতার তৈরি হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিটি পাখা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।

বগুড়া শহরের আসা এক গৃহিণী রওশন আরা বলেন, “বিদ্যুৎ থাকলে ফ্যান চলে, কিন্তু লোডশেডিং হলে তো উপায় নেই। তাই কয়েকটা হাতপাখা কিনে রাখলাম। বাচ্চাদেরও কষ্ট হয় গরমে।”
আরেক ক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, “এখন রাতে প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। হাতপাখা ছাড়া ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে ব্যবসাও। বগুড়ার সান্তাহার থেকে ট্রাকভর্তি হাতপাখা নিয়ে নিয়মিত সাভারে আসছেন ব্যবসায়ী বকুল। কয়েক বছর ধরে তিনি মৌসুমি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এবার বিক্রি নিয়ে আশাবাদী।

ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে বকুল বলেন, “এত গরম আগে কমই দেখেছি। তার ওপর লোডশেডিং হচ্ছে। মানুষ তাই বেশি করে হাতপাখা কিনছে। সান্তাহার থেকে ট্রাকভর্তি পাখা এনে কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি জানান, গ্রামের কারিগরদের তৈরি এসব পাখা রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্ডারও বেড়েছে।
বকুল বলেন, “একসময় মানুষ হাতপাখা খুব একটা কিনত না। এখন আবার এর কদর বেড়েছে। অনেকে একসঙ্গে চার-পাঁচটা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”
সান্তাহারের বিভিন্ন গ্রামে এখনও তালপাতার পাখা তৈরির কাজ করেন বহু নারী-পুরুষ। স্থানীয় কারিগররা জানান, বছরের অন্যান্য সময় বিক্রি কম থাকলেও গ্রীষ্ম মৌসুমে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফলে এই মৌসুমি পণ্য অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় গরমের সময় এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। ফলে কম খরচে সহজলভ্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণের চাহিদাও বাড়তে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তালপাতার সাধারণ একটি হাতপাখা যেন আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে- প্রয়োজনের মুহূর্তে পুরোনো সমাধানও নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের এই সময়ে অসংখ্য মানুষের কাছে তাই তালপাতার হাতপাখা শুধু একটি পণ্য নয়, বরং স্বস্তির বাতাস এনে দেওয়া নিত্যসঙ্গী।





