বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া জেলা কার্যালয়ে আসা বিএনপি নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা করেছেন কেউ কাঁদছেন, কেউ স্মৃতিচারণ করছেন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিক অবদান ও সংগ্রামের গল্প নিয়ে।

বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সমর্থকদের উদ্যোগে দ্রুত শোকানুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মর্যাদায় দোয়া ও কোরআন খতম করা হচ্ছে, যেখানে অংশ নিচ্ছে শতশত মানুষ।
বগুড়ার মানুষ কেবল একজন রাজনীতিককে হারায়নি-হারিয়েছে এক নেত্রীকে, যার রাজনীতির ইতিহাস গভীরভাবে জাতির রাজনৈতিক বোধ ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। আজ বগুড়া শহর ধরে রাখা চোখের জল ও ভারী দীর্ঘশ্বাসের মাঝেই এক অনিরূপ শোকের অনুভূতি অনুভূত করেছে।
কান্নারত অবস্থায় জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, কয়েক দিন আগে এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। খালেদা জিয়া তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা বগুড়া ও এখানকার মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। তার হাত ধরে অবহেলিত বগুড়া উন্নয়নের মুখ দেখেছে। তাই বগুড়ার মানুষ তাকে আজীবন স্মরণ ও শ্রদ্ধা করবেন বলেও জানান এই নেতা।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বগুড়া সদর-৬ আসনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হন। খালেদা জিয়া ফেনীর আসন রাখায় ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন।
সদর-৬ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বগুড়া- ৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। তবে তিনি এ আসন ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জয়ী হন। এছাড়া একবার উপনির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মওদুদ আহমদ প্রার্থী হলে তিনিও জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নির্বাচন বর্জন করলে জাতীয় পার্টির আলতাফ আলী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করলে বিএনপির সর্মথনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না থাকায় ওই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা আলম নান্নু।





